আল্লাহর আরশ কত উপরে?? কোরআন ও বিজ্ঞান কি বলে??

জনৈক বেদুঈন একবার রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) এর দরবারে এসে বললোঃ
“হে আল্লাহর রাসূল!মানুষ সংকটে পড়ে গেছে,পরিবার-পরিজন অনাহারে দিনপাত করছে,এবং ধন-সম্পদ ও গবাদি পশু ধবংস হয়ে গেছে।অতএব,আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন।আমরা আপনার উসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট এবং আল্লাহর উসিলা দিয়ে আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বললেনঃ”ধিক তোমাকে,তুমি কি বুঝতে পারছো,কি বলছো!
এই বলে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) অনবরত আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকেন।এমনকি সাহাবীগণের মুখমন্ডলে তার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।তারপর তিনি বললেনঃ
“ধিক তোমাকে!আল্লাহর উসিলা দিয়ে তার সৃষ্টির কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা চলে না।আল্লাহর শান তার অনেক উর্দ্ধে।ধিক তোমাকে!তোমার কি জানা আছে যে আল্লাহর আরশ তার আকাশসমূহের উপরে এভাবে আছে। (এ এবলে তিনি তার আঙ্গুলিসমূহের দ্বারা ইশারা করে গম্বুজের মত করে দেখান।তারপর বলেনঃ
“বাহন তার আরোহীর ভারে যেমন মচমচ করে উঠে আরশও তেমনই মচমচ করে উঠে।”
মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন বাশশার (র) এর বর্ণনায় বর্ণিতঃ
“আল্লাহ আছেন তার আরশের উপর আর আরশ আছে তার আকাশসমূহের উপর।”
মানুষ আল্লাহ তাআলার পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা নিরুপনে অক্ষম
১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,
وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (الزمر: 68)
‘‘তারা আল্লাহর যথার্থ মর্যাদা নিরুপন করতে পারেনি। কেয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোতে থাকবে।’’ (ঝুমার : ৬৭)
২। ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একজন ইহুদী পন্ডিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম এর নিকট এসে বললো, ‘হে মুহাম্মদ, আমরা [তাওরাত কিতাবে] দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা সমস্ত আকাশ মন্ডলীকে এক আঙ্গুলে, সমস্ত যমীনকে এক আঙ্গুলে, বৃক্ষরাজিকে এক আঙ্গুলে, পানি এক আঙ্গুলে ভূতলের সমস্ত জিনিসকে এক আঙ্গুলে এবং সমস্ত সৃষ্টি জগতকে এক আঙ্গুলে রেখে বলবেন, আমিই সম্রাট।’
এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম ইহুদী পন্ডিতের কথার সমর্থনে এমন ভাবে হেসে দিলেন যে তাঁর দন্ত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। অতপর তিনি
وما قدروا الله حق قدره والارض جميعا قبضته يوم القيامة
এ আয়াতটুকু পড়লেন।
সহীহ মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত আছে, পাহাড়- পর্বত এবং বৃক্ষরাজি এক হাতে থাকবে তারপর এগুলোকে ঝাকুনি দিয়ে তিনি বলবেন, ‘আমি রাজাধিরাজ, আমিই আল্লাহ।’
সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, সমস্ত আকাশ মন্ডলীকে এক আঙ্গুলে রাখবেন। পানি এবং ভূতলে যা কিছু আছে তা এক আঙ্গুলে রাখবেন। আরেক আঙ্গুলে রাখবেন সমস্ত সৃষ্টি। (বুখারী ও মুসলিম)
ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত মারফু হাদীসে আছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সমস্ত আকাশমন্ডলীকে ভাঁজ করবেন। অতঃপর সাত তবক যমীনকে ভাঁজ করবেন এবং এগুলোকে বাম হাতে নিবেন। তারপর বলবেন, ‘‘আমি হচ্ছি রাজাধিরাজ। অত্যাচারীরা কোথায়? অংহকারীরা কোথায়? (মুসলিম)
৩। ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাত তবক আসমান ও যমীন আল্লাহ তাআলার হাতের তালুতে ঠিক যেন তোমাদের কারো হাতে এটা সরিষার দানার মত।
৪। ইবনে যায়েদ বলেন, ‘‘আমার পিতা আমাকে বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম এরশাদ করেছেন,
ما السموات السبع فى الكرسى إلا كدراهم سبعة القيت فى ترس
‘‘কুরসীর মধ্যে সপ্তাকাশের অবস্থান ঠিক যেন, একটি ঢালের মধ্যে নিক্ষিপ্ত সাতটি দিরহামের [মুদ্রার] মত।’’ তিনি বলেন, ‘আবুযর রা. বলেছেন, ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল­ামকে এ কথা বলতে শুনেছি,
ما الكرسى فى العرش إلا كحلقه من حديد القيت بين ظهرى فلاة من الأرض. ‘‘আরশের মধ্যে কুরসীর অবস্থান হচ্ছে ঠিক ভূপৃষ্ঠের কোন উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকা একটি আংটির মত।
৫। ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার আকাশ এবং এর পরবর্তী আকামের মধ্যে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ’ বছরের পথ। আর এক আকাশ থেকে অন্য আকাশের দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের। এমনিভাবে সপ্তমাকাশের মধ্যে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের পথ। একই ভাবে কুরসী এবং পানির মাঝখানে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের। আরশ হচ্ছে পানির উপরে। আর আল্লাহ তাআলা সমাসীন রয়েছেন আরশের উপর। তোমাদের আমলের কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন নেই। (ইবনে মাহদী হাম্মাদ বিন সালামা হতে তিনি আসেম হতে, তিনি যিরর হ’তে, এবং যিরর আবদুল­াহ হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

Fair Use Disclaimer:
=================
This channel may use some copyrighted materials without specific authorization of the owner but contents used here falls under the “Fair Use” as described in The Copyright Act 2000 Law No. 28 of the year 2000 of Bangladesh under Chapter 6, Section 36 and Chapter 13 Section 72. According to that law allowance is made for “fair use” for purposes such as criticism, comment, news reporting, teaching, scholarship, and research. Fair use is a use permitted by copyright statute that might otherwise be infringing. Non-profit, educational or personal use tips the balance in favor of fair use.

“Copyright Disclaimer Under Section 107 of the Copyright Act 1976, allowance is made for -fair use- for purposes such as criticism, comment, news reporting, teaching, scholarship, and research. Fair use is a use permitted by copyright statute that might otherwise be infringing. Non-profit, educational or personal use tips the balance in favor of fair use.”

Leave a Comment