গুগল একাউন্ট ও জিমেইল একাউন্টের মধ্যে পার্থক্য কি?

গুগল একাউন্ট ও জিমেইল একাউন্ট – এই দুইটি বিষয় একই মনে হলেও মূলত এই দুইটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে পার্থক্য। এই পোস্টে গুগল একাউন্ট ও জিমেইল একাউন্টের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

গুগল একাউন্ট ও জিমেইল একাউন্ট এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলোঃ গুগল একাউন্ট ব্যবহার করে গুগল এর বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করা যায় আর জিমেইল হলো গুগল এর এসব সেবার মধ্যে একটি।

গুগল একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল টেকনোলজি কোম্পানি যা ব্যবহারকারীদের জন্য ইন্টারনেট-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রোডাক্ট ও সেবা প্রদান করে আসছে বেশ অনেক বছর ধরে। জিমেইল, সার্চ, এডস, ড্রাইভ, ইত্যাদি হলো গুগল এর কিছু উল্লেখযোগ্য সেবা। গুগল এর সেবাগুলোর মধ্যে সার্চ এর পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেবা হলো জিমেইল। তবে গুগল একাউন্ট ও জিমেইল কিন্তু একই বিষয় নয়। এবার জেনে নেওয়া যাক এই দুইটি আলোচিত বিষয়ের মূল ধারণা সম্পর্কে।

গুগল একাউন্ট কি?

গুগল একাউন্ট হলো গুগল সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা, যেমনঃ জিমেইল, হ্যাংআউট, ড্রাইভ, ইত্যাদি ব্যবহার করার জন্য একাউন্ট। আর উল্লেখিত সেবাগুলোর মধ্যে গুগল এর একটি সেবা হলো গুগল মেইল বা জিমেইল। জিমেইল একাউন্ট তৈরী করতে প্রথমে গুগল একাউন্ট তৈরী করতে হয়। বেশ সহজে গুগল একাউন্ট তৈরী করা যায়। নাম, ফোন নাম্বার, ইত্যাদি তথ্য প্রদান করে কিছু সময়ের মধ্যে গুগল একাউন্ট খোলা যায়।

গুগল একাউন্ট ব্যবহার করে অন্য গুগল অধিভুক্ত সেবাগুলোও ব্যবহার করা যায়। যেমনঃ ইউটিউবে ভিডিও লাইক করা, প্লেলিস্ট তৈরী করা কিংবা ভিডিওতে কমেন্ট করা, অথবা ইউটিউব চ্যানেল খোলা, সকল ক্ষেত্রে গুগল একাউন্ট প্রয়োজন হয়৷ আবার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ স্টোর, প্লে স্টোর ব্যবহার করতে গুগল একাউন্টের প্রয়োজন হয়।

এছাড়া গুগল ওয়ার্কস্পেস এর বিভিন্ন সেবা, যেমনঃ গুগল ডকস, শিটস, স্লাইডস, ইত্যাদি ব্যবহার করতে গুগল একাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। তবে গুগল বুকস ও গুগল ম্যাপস এর মত গুগল এর কিছু সেবা গুগল একাউন্ট ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।

জিমেইল একাউন্ট কি?

ইমেইল হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে মুহুর্তের মধ্যে ডিজিটাল মেসেজ আদান-প্রদান এর অনেকগুলো মাধ্যমের মধ্যে একটি। অগণিত ইমেইল সেবা থাকলেও জিমেইল এর জনপ্রিয়তা খুব কম ইমেইল ক্লায়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে। গুগল প্রদত্ত এই ফ্রি ইমেইল সেবা ব্যবহার করা যায় প্রায় যেকোনো ইন্টারনেটে যুক্ত ডিভাইসে৷

জিমেইল এর সেবা ব্যবহার করতে জিমেইল একাউন্টের প্রয়োজন হয়। আবার গুগল একাউন্ট থাকলে আলাদা করে জিমেইল একাউন্টের প্রয়োজন হয়না। সরাসরি জিমেইল ব্যবহার করা যায় গুগল একাউন্টের ইন্ট্রিগ্রেশন ফিচারের সুবাদে।

অন্য সকল ইমেইল ক্লায়েন্ট, যেমনঃ হটমেইল বা ইয়াহু এর চেয়ে জিমেইল অনেক অনেক বেশি জনপ্রিয়। জিমেইল এর বহুবিধ সুবিধা বিবেচনা করলে জিমেইল এর জনপ্রিয়তার বিষয়টি বুঝা যায়।

একাধিক প্রাপকে একই ইমেইলে মেইল পাঠানোর পাশাপাশি গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে যেকোনো সাইজের ফাইল পাঠানো যায় জিমেইল এর মাধ্যমে। এছাড়া স্পাম ফিল্টার, ভাইরাস প্রটেকশন ও ইমেইল রিমাইন্ডার মত অসাধারণ সব ফিচার রয়েছে জিমেইলে। অর্থাৎ ইমেইল ক্লায়েন্ট হিসেবে জিমেইল এর এতো জনপ্রিয়তার পেছনে এর অসাধারণ ফিচারগুলো ভূমিকা পালন করছে।

গুগল একাউন্ট ও জিমেইল একাউন্টের মধ্যে পার্থক্য

গুগল এর নানাবিধ সেবা ব্যবহার করতে ব্যবহারকারীগণ গুগল একাউন্ট তৈরী করে থাকেন। আর জিমেইল একাউন্ট হলো ব্যবহারকারীর ইমেইল ম্যানেজ করার জন্য একটি ইউজার একাউন্ট। গুগল একাউন্ট ও জিমেইল একাউন্টের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত জানি চলুন।

ব্যবহার

গুগল একাউন্ট ব্যবহার হয় গুগল এর বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করতে। গুগল ওয়ার্কস্পেস থেকে শুরু করে গুগল মিট পর্যন্ত, গুগল এর সকল সেবা ব্যবহার করা যায় একটি গুগল একাউন্টের মাধ্যমে। অন্যদিকে জিমেইল হলো গুগল এর অসংখ্য সেবার মধ্যে একটি, যার একাউন্ট ইমেইল ম্যানেজ করতে ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়।

সার্ভিস

জিমেইল শুধুমাত্র ফ্রি ইমেইল একাউন্ট ও সে সম্পর্কিত সেবা দিয়ে থাকে। অন্যদিকে গুগল একাউন্ট এর মাধ্যমে গুগল এর সকল সেবা ব্যবহার করা যায়।

অ্যাকসেস

প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে একজন ব্যবহারকারী গুগল একাউন্ট তৈরী করতে পারেন। এই গুগল একাউন্ট ব্যবহার করে একজন ব্যবহারকারী গুগলের সকল সেবা ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে জিমেইল একাউন্ট তৈরী করতে হলে প্রথমে একটি গুগল একাউন্ট থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ জিমেইল ব্যবহার করতে চাইলে গুগল একাউন্ট খুলতে হবে প্রথমে।

উল্লেখিত আলোচনা থেকে গুগল ও জিমেইল একাউন্ট সম্পর্কিত সকল বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাওয়ার কথা। মোট কথা হলো গুগল একাউন্ট হলো গুগল এর বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের জন্য একটি একাউন্ট, আর জিমেইল হলো গুগল প্রদত্ত অসংখ্য সেবার মধ্যে একটি যা ব্যবহার করতে গুগল একাউন্টের প্রয়োজন হয়।

সোজা কথায় বলা যায় জিমেইল একাউন্ট হচ্ছে মূলত একটি গুগল একাউন্ট। তবে ভবিষ্যতে এই নীতি গুগল পরিবর্তন করে কিনা তা সময় এলেই জানা যাবে। আপনার কী মনে হয়?

 

Leave a Comment