না চাইলেও তুই আমার !! লেখাঃ সারজীন ইসলাম

না চাইলেও তুই আমার

মিরা আজ বিশ বছর পর দেশে ফিরছে।আজও দেশে ফেরার কোনো ইচ্ছে ছিলো না কিন্তু ফেরার একমাত্র কারণ হল ওর মামু ফাহিম আহামেদ।মিরা ছোট থেকে ওর মামুর কাছে মানুষ হয়েছে।মিরার জন্য ওর মামু আজ পর্যন্ত বিয়ে করে নি।মিরার বাবা মা ভালোবাসে বিয়ে করেছিল কিন্তু মিরা যখন একটু একটু বুঝতে শিখে তখন দেখতো ওর বাবা মা ছোট খাটো বিষয় নিয়ে খুব ঝগড়া করতো।মিরার যখন মাত্র পাঁচ বছর বয়স তখন তার বাবা মার ডিভোর্স হয়ে যায়। তখন তার কেউ ছোট্ট মিরার কথা চিন্তা করে নি।মিরার দাদা মিরার বাবা কে দ্বিতীয় বিয়ে করায় আর অন্যদিকে মিরার নানা নানু মিরার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে দেয়। তখন ছোট্ট মিরা বুঝতো না তার বাবা মা কেনো আলাদা থাকে।মিরা কারো সাথে কথা বলতো না সারাক্ষণ রোদে মধ্যে ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো।মিরার মামু তার আদরের ভাগ্নির এভাবে বদলে যাওয়া কোনো ভাবে মেনে নিতে পারে নি।মিরার বাবা তার সংসার নিয়ে ব্যস্ত তার সময় নেই মিরা কে একটু সময় দেওয়ার।তাই মিরার মামু বাধ্য হয়ে মিরা কে নিয়ে মালয়েশিয়া চলে যায়। এরপর থেকে মিরা আস্তে আস্তে বদলে যেতে শুরু করে রাগ,জেদ মিলে এক অন্য মিরার জন্ম হয়। তখন থেকে মিরা বিশ্বাস করে পৃথিবীতে ভালবাসা বলে কোনো কিছু নেই যা আছে তা শুধু মোহো।মাত্র সতের বছর বয়সে ওর মামুর বিজনেস জয়েন্ট করে নিজের দক্ষতার ওর মামুর কোম্পানি মালয়েশিয়ার নাম্বার ওয়ান কোম্পানি তৈরি করে। বিজনেস ওয়ার্ল্ডে মিরাকে বিজনেসর লেডি মাফিয়া বলে ডাকে।মিরা বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পর আর বাংলাদেশের কারো সাথে যোগাযোগ করেনি। কিন্তু মিরার মামু মিরার বাবার সাথে যোগাযোগ রেখেছিল।মিরার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর অনামিকার কোল আলো করে জমজ ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।বড় ছেলের নাম আরিফ আর ছোট ছেলের নাম জারিফ।আরিফ মিরার ফুফাতো বোন নীলাকে ভালোবাসতো। ওদের বিয়েটা ঘরোয়া ভাবে হয়ে যায়।ওদের তিন বছরের একটা মেয়ে আছে নাম নিরা। জারিফের বিয়ে পারিবারিকভাবেই ঠিক হলে তখন মিরার বাবা মিরার মামুকে বিয়েতে মিরাকে নিয়ে আসতে বলে মিরা যাবে না তাই মিরার মামু একাই আসে বিয়ে। কিন্তু আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে মিরার মামুর একটু জ্বর ঠান্ডা লেগে যায়।মিরার মামু মিরাকে না জানালেও মিরা ঠিকই জেনে যায়।তাই সব কিছু ছেড়ে ছুরে হন্তদন্ত হয়ে বাংলাদেশ আসা।মিরার মামু জানে না মিরা আজ বাংলাদেশ এসেছে।- না চাইলেও তুই আমার

মিরা airport থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠলে তার পিছন পিছন জমধুদের মত দুজন বডিগার্ড ও গাড়িতে উঠে।পায় চল্লিশ মিনিট পর মিরার গাড়ি যখন খান বাড়ির গেট দিয়ে ঢুকে তখন মিরা জানালার কাঁচ নামিয়ে বাড়ির নাম টা দেখে ঠোঁটের কোনায় তাচ্ছিল্য হাসি ফুটে উঠে বিরবির করে বলে।
মিরা : আনন্দ নিবাস।
ডোল বেল বাজালে কিছুক্ষণ পর খান বাড়ির কাজের লোক রুমা নামের মেয়েটি এসে দরজা খুলে দেখে সাদা শার্ট ব্লাক জিন্স পড়া একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। গায়ের রং ফর্সা। এককথায় বলতে গেলে অসম্ভব সুন্দরি।তার পিছনে দুজন বডিগার্ড দাঁড়িয়ে আছে একজনের হাতে একটা ট্রলি।
রুমা : কাকে চাই?

মিরা : সামনে থেকে সরো।
রুমা : বললেই হলো না কি পরিচয় না দিলে ঢুকতে দেবো না।- না চাইলেও তুই আমার
মিরা রক্ত চোখে রুমার দিকে তাকালে। রুমা ভয়ে ঢোক গিলে সামনে থেকে সরে যায়।মিরা হনহনিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে যায়। পিছন থেকে রুমা চিকিৎসা করে বলছে।
রুমা : আম্মা দেখেন কে জানি জোর করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ছে।
খান বাড়ির সবাই ব্রেকফাস্ট করছিল রুমার কথা শুনে সবাই মিরার দিকে তাকায়।মামু মিরাকে দেখে কলিজা পানি শুকিয়ে যাবার মত অবস্থা।আজ তাকে কেউ রক্ষা করতে পারবেন না তিনি নিশ্চিত। এদিকে মিরার পরিবারের লোকজন মিরাকে চিনতে পারেনি।মিরা সেদিন ভুক্ষেপ না করে ওর মামুর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়।মামু চেয়ার ছেড়ে মিরার সামনে অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।মিরা বেশ শান্ত গলায় বলে।
মিরা : এখানে আসতে আমি বারন করেছিলাম না?
মামু কিছু না বললে মিরা আবার বলে।

মিরা : কি হলো কথা বলছো না কেনো?জ্বর হলো কি করে?

এবার ও কিছু না বললে মিরা রেগে সামনে রাখা পানির গ্লাসটা ফ্লোরে আছাড় মেরে ভেঙ্গে ফেলে চিৎকার করে বলে।

মিরা : কিছু জিজ্ঞাস করছি আমি তোমায়?

মামু : আসলে মা,,মা,,

মিরা : থাক তোমাকে আর বলতে হবে না। আমি জেনে নিচ্ছি।জন কোথায়?

জান : মেমমম,,ম আমি এইখানে!- না চাইলেও তুই আমার

জনের ভয়ে হাত পা কাঁপা শুরু করে দিয়েছে মিরা সামনে গিয়ে বলে।

মিরা : আমাকে জানাও নি কেনো?

জন ভয়ে ভয়ে বলে।

জন : স,,স্যার বারন করেছে!

মিরা রেগে বলে।

মিরা : তোর সেলারি দেয় কে?তোর স্যার না আমি?

জন : আপনি!

মিরা : তাহলে আমার কথা না শুনে তোর স্যারের কথা শুনলি কেনো?

এই কথা বলে জনের শার্টের কলার ধরে ঠাস করে তিনটা থাপ্পর লাগিয়ে দেয়। খান বাড়ির সবাই টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। খান বাড়িতে এসে এই মেয়ে গুন্ডামি করার সাহস পায় কি করে তা ভেবে পায়না। মামু দেখে মিরা ভয়ংকর রেগে আছে এখন না থাকলে মিরা জনকে আজ মেরে ফেলবে।

মামু : মিরা মামনি থাম। জনের কোনো দোষ নেই আমি ওকে বলতে বারণ করেছি।

মামুর মুখে মিরা নাম শুনে যেনো সবাই আকাশ থেকে পড়ে।সবাই একবার মিরার দিকে তাকায় আর একবার মামুর দিকে তাকায়।মিরার দাদা আজিজ খান কাঁপা কাঁপা গলায় মিরার মামুকে জিজ্ঞাসা করে।- না চাইলেও তুই আমার

দাদা : কি বললে ফাহিম?

মিরার দাদি উত্তেজিত হয়ে বলে।

দাদি : ও কি আমাদের সেই ছোট্ট মিরা?

মামু মাথা নেড়ে হ্যা সম্মতি জানায়।মিরার দাদি ধীর পায়ে মিরার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়।মিরার মুখে হাত বুলিয়ে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়। কিন্তু মিরা পাথরের নেয় সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে ওর ভিতরে যেনো কোনো অনুভূতি কাজ করছে না।দাদি মিরা কে ছেড়ে দিয়ে বলে।

দাদি : কত বড় হয়ে গেছে আমার দিদিভাই টা। আমাকে তো একদম ভুলেই গেছিল। কেমন আছে এই বুড়িটা একবারো খোঁজ নিয়েছিস।

মিরা : ভালোই তো ছিলে বরা সংসার তোমার খারাপ থাকবে কেনো?

মিরার বাবা নিলয় খানের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।আজ সাহস পাচ্ছে না মিরার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে।মিরার ফুপি নীলিমা খাবার ছেড়ে উঠে গিয়ে মিরার গালে হাত দিয়ে ছলছল চোখে বলে।

ফুপি : মা এই সেই ছোট্ট পরি।যে সারা বাড়িময় দৌড়াদৌড়ি করতো। আমার কাছে চকলেট খাওয়ার জন্য বায়না করে। তুই কি করে পারলি এত নিষ্ঠুর হতে?বিশ বছরে একবারো খোঁজ নিয়েছিস তোর ফুপিটা কেমন আছে?

মিরা গাল থেকে হাতটা সরিয়ে বলে।

মিরা : প্রয়োজন মনে করেনি খোঁজ নেওয়ার। তাছাড়া ভালোই তো আছো সবাই।

ফুপি : এভাবে কথা বলছিস কেনো পরি?

মিরা : এসব কথা এখন ছাড়ো। মামু জামাকাপড় পেক করে নেও রাতের ফ্লাইটে আমরা মালয়েশিয়া বেক করছি। টিকিট কাটা হয়ে গেছে।

দাদি এবার জোরে কেঁদে দিয়ে বলে।

দাদি : কি বলছিস এসব তুই পাগল হয়ে গেছিস?এত বছর পর দেশে ফিরলি এখন আবার চলে যেতে চাস।

মিরা চোখ মুখ শক্ত করে বলে।

মিরা : আমি এখানে থাকতে আসিনি। শুধু মামুর জন্য এসেছি।

আর কেউ কিছু বললে তার আগে মিরার একজন বডিগার্ড এগিয়ে এসে বলে।

ডেনি : মেম আপনার এসিস্ট্যান্ট ফোন করেছিল। আজকে তো আপনার মিটিং ছিলো। কাউকে কিছু না জানিয়ে বাংলাদেশ চলে এসেছেন। এখন মিটিং এর কি হবে জানতে চাচ্ছে।

মিরা : আজকে আর কালকের যত মিটিং আছে সব ক্যান্সেল করে দিতে বলো।

ডেনি ফোন নিয়ে চলে গেলে মিরা চোখ বন্ধ করে তিন বার জোরে শ্বাস ছাড়ে আর নিয়ে রাগ কন্ট্রোল করে ওর মামুর সামনে গিয়ে বলে।

মিরা : সরি মামু তোমার উপর চেঁচামেচি করার জন্য। তুমি তো জানো আমার রাগ উঠলে আমার মাথা ঠিক থাকে না।

মামু মিরার কপালে চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলে।

মামু : আমি জানি তুই আমার ভালোর জন্য আমার উপর রাগ করিস। চিন্তা করিস না জ্বরের জন্য ডাক্তার দেখিয়ে নিয়েছি। আর তুই না আমার মা এখানে সরি বলার কি আছে।

মিরা : শোনো বাংলাদেশ যখন এসেছি তখন এখানকার অফিস টা একবার দেখে আসি।আর তুমি সবকিছু গুছিয়ে নেও এসে একবারে বেরিয়ে যাবো।

মামু : এইতো এলি কিছুক্ষণ পর যা। বিশ্রাম নিয়ে কিছু খেয়ে নেয়।

মিরা : তুমি তো জানো আমি কেমন শুধু শুধু এগুলো বলো কেনো! আচ্ছা চলি আমি।

মিরা বেরিয়ে যাবার সময় দাদি আর ফুপি মিরাকে অনেক ডাকে কিন্তু মিরা সবকিছু উপেক্ষা করে বেরিয়ে যায়।মিরা একবারের জন্যও ওর বাবা আর দাদার দিকে তাকায়নি।মিরা বেরিয়ে গেলে মিরার বাবা আস্তে আস্তে হেটে গেছি সোফায় বসে পড়ে। দাদি আর ফুপি এখনো কান্না করছে।মিরার দাদা ওর মামুকে বলে।

দাদা : ও কি সত্যি আবার চলে যাবে?

মামু : ওর কথার কোনো নরচর হয় না।

জারিফের নতুন বউ নিধি এসব কিছুই বুঝতে পারছে না।কোথা থেকে একটা মেয়ে এসে বাড়ির সবার মন খারাপ করে দিয়ে গেলো।নিধি আস্তে করে নীলাকে জিজ্ঞাসা করে।

নিধি : আপু উনি কে গো?

নীলা : আমার মনে হয় উনার নাম মিরা।

আরিফ : ও এই বাড়ির মেয়ে। আমাদের বড় আপু। নীলা তুমি ফুপির কাছে বোধহয় আপুর ছোট বেলার গল্প শুনছো?

নীলা : হ্যা মা অনেকবার বলেছে।আম্মু তো বলেছে তার পরি খুব মিষ্টি কারো কথার অবাধ্য হয় না। কিন্তু?

জারিফ : আপুর জীবনটা আর পাঁচটা মানুষের জীবনের মত নয় তা তোরা কেনো ভুলে যাচ্ছিস।

নিধি : কেনো কি হইছে আপুর জীবনে?

আরিফ : আপুর যখন পাঁচ বছর বয়স তখন আপুর মা মানে বড় মার আর বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর আপু সারাদিন একা একা থাকতো কারো সাথে কথা বলতো না। বাবা মা বিয়ে হওয়ার পর আপু বাবার থেকে একটু একটু করে দূরে সরতে থাকে।মামা আপুর এই পরিবর্তন দেখতে না পেয়ে আপুকে তার সাথে নিয়ে যায় মালয়েশিয়ায়। এরপর আপু কারো সাথে যোগাযোগ করেনি।এরপর দুই বছর পর আমি আর জারিফ আসি মায়ের কোলে।মা এখনো নিজেকে দোষারোপ করে যাকে দেখাশোনা করার জন্য তাকে এনেছে আর তার কারনেই সে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।মাত্র সতের বছর বয়সে মামার বিজনেস জয়েন্ট করে লেখাপড়া পাশাপাশি। আপুর হাত থেকে কোনো ডিল হাত ছাড়া হয় না। বিজনেস ওয়ার্ল্ডে আপুকে বিজনেসর লেডি মাফিয়া বলে ডাকে। আপুর লাইফস্টাইল সম্পর্কে প্রায়ই আর্টিকেল বের হয়।এসব কথা কিছু মা আর দাদির কাছ থেকে জেনেছি।

নিধির চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।

নিধি : ঐটুকু বয়সে যখন খেলা করার সময় তখন নিজের সাথে লাড়াই করতেই ব্যস্ত ছিলো। আপু কি সত্যি আবার চলে যাবে?

জারিফ : দাদার রাগ সম্পর্কে তোমরা তো সবাই জানো। কিন্তু আমি মামার কাছ থেকে শুনেছি আপু আরো দুই কাঠি উপরে দাদার। আপুর তো রাগ করে আছে আমাদের উপর।আর যদি কেউ পারে আপুকে আটকাটে তাহলে একমাত্র মামা পাড়বে।

সারাদিন মিরার চিন্তা চিন্তায় কেটে যায়। দাদি, ফুপি আর আরিফের মা সবাই মিলে মিরার পছন্দের খাবার রান্না করে বসে থাকে মিরার অপেক্ষায়।

মিরা বিকালে অফিস থেকে বেরোলে সামনে রাস্তায় চোখ যায় কিছু দেখে ওর চোখ আস্তে আস্তে লাল হতে শুরু করে।ড্রাইভারে কাছ থেকে চাবি নিয়ে একা বেরিয়ে যায় মিরা। পিছন পিছন ডেনি অন্য গাড়ি নিয়ে ফলো করতে থাকে।মিরা ইচ্ছে করে একটা গাছের সাথে ওর গাড়ির ধাক্কা দেয়।মিরা কপালে বারি খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।ডেনি দূত মিরাকে গাড়ি থেকে বের করে হসপিটালে নিয়ে যায়।

হসপিটালে মিরাকে এমার্জেন্সি ওয়ার্ল্ডে নিয়ে যায়।নার্স চলে যায় ডাক্তার মিহান চৌধুরীকে ডাকতে। আকাশ চৌধুরী আর মায়া চৌধুরীর বড় সন্তান।মিহানের ছোট একটা বোন আছে ক্লাস টেনে পড়ে আরিশা চৌধুরী সংক্ষেপে সবাই অনু বলে ডাকে। মিহান কে দেখতে কোনো নায়কের চেয়ে কম নয়। হসপিটালের মেয়ে ডাক্তার নার্স মিহানের উপর ক্রাশ খায়। অনেকবার এমন হয়েছে ডাক্তার দেখাতে এসে ওকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় কিন্তু মিহানের মনের মত আজ পর্যন্ত কাউকে পায়নি। নার্স মিহানকে সাথে করে নিয়ে আসে।মিরার রক্তমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে এক ধেনে।মিহানের বুকের ভিতর শীতল বাতাস বইতে থাকে এরকম অনুভুতি আগে কখনো হয়নি। নার্সের কথায় ঘোর কেটে ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেয়। ট্রিটমেন্টে শেষ করে নিজের কেবিনে যায় মিহান কিন্তু শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারছে না বারবার মিরার মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে।নিজেই নিজে বিরবির করে বলে।

মিহান : অবশেষে কি আমি প্রেমে পড়লাম?

কিছুক্ষণ পর নার্স এসে খবর দেয় মিরার জ্ঞান ফিরেছে।মিহান মিরার কেবিনে ঢুকে দেখে হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বসে আছে।

মিহান : এখন কেমন লাগছে তোমার?

মিরা : ও হ্যালো মিস্টার। আপনি আমাকে চিনেন যে আমাকে তুমি করে বলছেন?

মিহান : চিনি না চিনতে কতক্ষণ?

মিরা দাঁতে দাঁত চেপে বলে।

মিরা : অপরিচিত কেউ আমাকে তুমি করে বলুক তা আমার পছন্দ নয়।

মিহান হেসে দিয়ে বলে।

মিহান : বেশ!কিন্তু আমি তো সবাইকে তুমি করে বলি।

মিরা রাগ কন্ট্রোল করে বলে।

মিরা : আমি বাড়ি যেতে পারবো কখন?

মিহান : কাল সকালে।আজ রাতে আমার ডিউটি নেই কাল সকালে তোমাকে আর একবার চেকাব করতে হবে তারপর তুমি যেতে পারবে।

মিরা : ঠিক আছে। আপনি এখান যান। আমি এখন একা থাকতে চাই।

মিহান : ওকে ডিয়ার!

মিরা : হোয়াট?

মিহান কিছু না বলে হেসে কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়।

চলবে…

Leave a Comment