ও আমায় ভালোবাসেনি !! লেখাঃ সিনিন তাসনিম সার

ও আমায় ভালোবাসেনি

স্যরি মিথি পারলে মাফ করবে আমাকে । আমি আসলে চারুকে ভালোবাসি তোমাকে না , সেই স্কুল লাইফ থেকেই আমাদের সম্পর্ক ছিল কিন্তু মাঝখানে একটা তিক্ত সময় না চাইতেও চলে আসে ..
চারু আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না ব্যাপারটা!
আর এ কারণেই…
আই হোপ তুমি বুঝতে পারবে আর প্লিজ পারলে মাফ করবে আমাকে?

এতটুকু বলেই থামলো ফয়সাল ।
আমার চোখ ফেটে কান্না আসতে চাইছে , হৃদয় ভেঙে চুরমার! কিন্তু তবুও নিজেকে সামলে রেখেছি বড্ড কষ্ট করে ।
দু’টো ভালোবাসার মানুষকে আলাদা করার অধিকার আল্লাহ আমাকে দেননি আর ভালোবাসা জোর করে আদায় করে নেবার শক্তিও দেননি!
এই ব্যাপারে আমি কি বলবো খুঁজে পেলাম না ।
কান্নাগুলি গলার মাঝে এসে আটকে গেছে , আমিই আটকে রেখেছি জোর করে ।
বহু কষ্ট নিজেকে সামলে একটু হাসলাম আমি ।
হেসেই ফয়সালকে বললাম_ যাক প্ল্যান কাজে লাগলো তাহলে?
— প্ল্যান?
ফয়সাল আর চারু আপু দু’জনেই একসাথে বলে উঠলো আমাকে ।- ও আমায় ভালোবাসেনি
— হুউউ , প্ল্যানই তো ।
আপনাকে আর চারু আপুকে মেলাবার জন্য কত্ত পরিশ্রম করতে হলো আমাকে , অভিনয় করলাম ভালোবাসার যাতে আপু জেলাস হয় আর আপনার কাছে ফিরে আসে ।
উফফ আমার পরিশ্রমের ফল পেলাম তাও আবার এত্ত মিষ্টি একটা!
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হলো আমাকে জোর করেই..
আমার কথা শুনে ফয়সাল আর চারু আপু দু’জনেই হেসে ফেললো ।
একসাথে বললো_বাচ্চাই রয়ে গেলে তুমি!
আমিও মাথা নাড়িয়ে বললাম_তা তো অবশ্যই!
তারপর আমিই আগে বললাম_ উহুম উহুম আমার কিন্তু জলদি খুশির খবর চাই।
চারু আপু একটু লজ্জা পেলো আর ফয়সাল মাথা চুলকে বললো _পাবে পাবে!
তারপর আরো কিছু বলতে চাইলো কিন্তু তার আগেই আমার ফোনটা বেঁজে উঠল ।
ফোনটা পেয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম মনে হলো ।
এক্সকিউজ মি বলে উঠে সাইডে চলে আসলাম ।
বাবা কল করেছেন , কিন্তু আমি আসলে রিসিভ করলাম না ।বাবার কন্ঠ শুনলে আমি মোটেই কান্না আটকাতে পারবো না তাই বেশ কিছু সময় ব্যায় করে ফোন কেটে ওদের কাছে গেলাম ।

ব্যাগ নিতে নিতে তাড়াহুড়ো করে বললাম_ আমার আসলে এক্ষুণি বাসায় যেতে হবে , বাবা কল করেছিলেন ।
ফয়সাল বললেন_আরেহ্ বসে যাও খানিকটা আঙ্কেলকে আমিই বুঝিয়ে বলবো ।
আমি বললাম_নাহ্ রেজাল্ট খারাপ হয়েছে বাবা বেশ রেগে আছেন! আমি বরং যাই…
তল্পিতল্পা করে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে বাইরে আসলাম ।
আসার সময় বলে আসলাম_খুব ভালো থাকবেন আপনারা!
বিনিময়ে ওরা হাসলো । আপু বললো তুমিও ভালো থেকো ।- ও আমায় ভালোবাসেনি
মনে মনে শুধু বলে উঠলাম_ আমার ভালো থাকাটাই আপনাকে দিয়ে দিচ্ছি এখন কি আর ভালো থাকতে পারবো?
,
রিকশা করে যাওয়ার সময় ঠিক করে ফেললাম আমি আজই লন্ডন চলে যাব ।
ফয়সালকে মিথ্যে বলেছি আমি , আমার রেজাল্ট খারাপ হয়নি বরং এতটাই ভালো হয়েছে যে আমাকে ল-নিয়ে বিদেশে পড়বার সুযোগ দেয়া হয়েছে ।
৪ বছরের কোর্স , ভেবেছিলাম মানুষটাকে ছাড়া এতদিন থাকতে পারবো না তাই যেতে চাইছিলাম না কিন্তু আজ মানুষটার থেকে দূরে যাওয়া বড্ড প্রয়োজন মনে হচ্ছে ।
জীবনটা বড়ই অদ্ভুত , আমরা যা চাই তা পাইনা

এই চিরন্তন সত্যটি আমি একদম ছোট থেকেই পদে পদে টের পেয়েছি ।
ছোট থেকেই আমি সবসময় চাইতাম অন্য সবার মত একটা নরমাল লাইফ , নরমাল ফ্যামিলি ।
পুরো পৃথিবীর কাছে আমার পরিবার নরমাল হলেও আমার কাছে মোটেই নরমাল ছিলো নাহ ।
কারণ আমি ছোট থেকেই আমার মায়ের ভালোবাসা পাইনি ।
এর কারণ হলো মা মনে করেন তার একটা সন্তানকে আমি খুন করেছি । আচ্ছা এমনও কি হয়? কেউ নিজেরই ভাই/বোনকে খুন করতে পারে কখনো?
পারেনা । এটা সবাই জানে শুধু মা বিশ্বাস করেনা ।
মা যখন চার মাসের গর্ভবতী তখন বয়স আমার সাত ।
একদিন স্কুল থেকে ফেরার পর মেলায় যাব বলে বায়না করছিলাম ।
বাবা তখন অফিসিয়াল কাজে চট্টগ্রাম গেছেন ।- ও আমায় ভালোবাসেনি
মা বলছিল আমায় বিকেলে নিয়ে যাবে কিন্তু আমার তক্ষুনি যাওয়া চাই!
আমি রেগে , কান্নাকাটি করে অবস্থা খারাপ করে ফেললাম ।
মা খাবার দিয়েছিলেন সেগুলো ছুঁড়ে ফেলে একাকার করে দিয়েছিলাম ।
মা যখন ঘরে আসলেন আমাকে থামাতে তখন খাবারের সাথে যে পানি পড়েছিল ফ্লোরে, সেই পানিতে স্লিপ কেটে উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন ।
পেটে আঘাত লেগে মিসক্যারেজ হয়ে গেলো আর তারপর থেকে হয়ে গেলাম আমি খুনি ।
অদ্ভুত ভাবে সেইদিনের পর থেকে আমার জীবনে রাগ আর জিদের কোনো জায়গা থাকলো না ।
হয়ে গেলাম নরম সরম , শান্তশিষ্ট অবহেলিত একটি মেয়ে ।

মা আমাকে দেখতে পারতেন না বলে বাবা ফুপির বাসায় রেখে আসলেন ।
ফুপি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন , তিনি চেষ্টা করতেন মায়ের অভাব পূরণ করার কিন্তু মা তো মা ই হয় । ফুপি কি মা হতে পারে??
ফুপির বাসায় আমার দিনগুলো ভালোই যাচ্ছিলো কিন্তু সেখানকার ঠিকানাটাও স্থায়ী হলো না আমার ।
ও লেভেল শেষ করার পরপরই ফুপির ছেলে রাইদ ভাই আসলেন বিদেশ থেকে ।
আর এরপরই আমার জীবনের আরেকটা অধ্যায়ের সূচনা হলো ।
যার সমাপ্তি হয়তো ফয়সালের কাছে এসে ঠেকলো..
,
চলবে,

Leave a Comment