এডসেন্স Vs এফিলিয়েট : কোনটা থেকে বেশি আয় সম্ভব?

এডসেন্স Vs এফিলিয়েট: যখন আমারা আমাদের ব্লগ থেকে আয় করা কথা ভাবি তখন প্রথম যে প্রশ্নটি: এডসেন্স নাকি এফিলিয়েট। বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন পরামর্শ।

যখন আমারা আমাদের ব্লগ থেকে আয় করা কথা ভাবি তখন প্রথম যে প্রশ্নটি সবার মনে আসে তা হল: এডসেন্স নাকি অ্যাফিলিয়েট।

কোনটা থেকে বেশি আয় করা যায়? পুরো আর্টিকেল জুড়ে আলোচনা করব, কোন সময় কোনটা আপনার জন্য বেস্ট অপশন। তার আগে জেনে নেয়া যাক:

এডসেন্স কি? what is adsense in bengali

এডসেন্স হচ্ছে গুগলের একটি মনিটাইজেশন প্রগ্রাম। আপনি গুগলের এডসেন্সের মাধ্যমে ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে পারেন।

একবার আপনার সাইটে গুগলের এডসেন্স প্রোগ্রাম পেলে, আপনার আর কোনো কাজ করার লাগবে না।

সাইটের কোথায় বিজ্ঞাপন দেখানো হবে, কতটাকা করে পাবেন সবকিছু গুগল ম্যানেজ করবে।

এফিলিয়েট কি? what is affiliate in bengali

সহজে বললে, এফিলিয়েট হল কোনো পণ্য বিক্রির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন নেয়া।

আপনি আপনার লেখার মাধ্যমে, মানুষকে ইনফ্লোয়েন্স করে কোনো কিছু বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানী থেকে টাকা নেয়া।

আমি এখানে এডসেন্স কি বা এফিলিয়েট কি তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। আজকের আলোচ্য বিষয়: এডসেন্স ও এফিলিয়েট এর সুবিধা ও আয়ের পরিমাণ।

এডসেন্স Vs এফিলিয়েট মার্কেটিং:

  • গুগল এডসেন্সের এপ্রুভাল পাওয়ার তুলনায় এফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলোর এপ্রুভাল পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
  • এডসেন্সের থেকে এফিলিয়েট মর্কেটিংয়ে টাকা বেশি পাওয়া যায়।
  • আপনার নিস অনুযায়ী এফিলিয়েট প্রডাক্ট সিলেক্ট করতে পারবেন। যেখানে গুগল তার হিসাব মতো পণ্যের বিজ্ঞাপণ দিয়ে থাকে।
  • গুগল একাই এডসেন্স ম্যানেজ করে, যেখানে এফিলিয়েট প্রোগ্রাম গুলো অনেক কোম্পানী সমন্বয়ে ম্যানেজ হয়ে থাকে।

সুবিধা অসুবিধায় এডসেন্স এবং এফিলিয়েট!

১. কমিশন: এফিলিয়েট প্রোগ্রামে আপনি যত টাকার পণ্য বিক্রি করবেন, তার একটি নির্দিষ্ট অংশ আপনাকে দেয়া হবে। গুগল এডসেন্স কোনো কমিশন দেয় না; আপনার সাইটে যতগুলো এডে ক্লিক এসেছে তার ভিত্তিতে টাকা দেয়।

২. পণ্য পছন্দ: আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে কাজ করেন; তবে আপনার পছন্দমতো পণ্য সিলেক্ট করে বিজ্ঞাপণ দিতে পারেন। কিন্তু গুগলের ক্ষেত্রে গুগল তার মতো করে পণ্যের বিজ্ঞাপণ দিয়ে থাকে।

অর্থাৎ আপনার সাইটের কন্টেন্টে কি বিজ্ঞাপন দেখানো হবে তা গুগল এডসেন্সে আপনি বাছাই করতে পারবেন না।

৩. বিশ্বস্ততা: গুগল একটি নামি দামি কোম্পানী তাই এখানে ফ্রড হওয়ার সম্ভাবণা অনেক কম।

বিভিন্ন ছোট-খাটো এফিলিয়েট কোম্পানী আছে যারা ফ্রড করতে পারে। তবে নামি-দামি কোম্পানী যেমন: অ্যামজন, ইবে ইত্যাদি কোম্পানীর এফিলিয়েট নিয়ে কাজ করা অনেকটা নিরাপদ।

এসব ছোটখাটো পয়েন্টের থেকে একটি বড় পয়েন্ট হচ্ছে আয়। কোনটা থেকে কেমন আয় হয় জেনে নেয়া যাক:

আয়: এফিলিয়েট Vs এডসেন্স

# এফিলিয়েট (Affiliate)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ঢোকা সহজ হলেও আয় করা একটু কঠিন। দেখুন, এফিলিয়েট প্রোগ্রামে তখনই আয় হবে; যখন আপনার লিংক ব্যবহার করে কেউ কোনো প্রডাক্ট কিনবে।

আমার কাছে মনে হয়, সবচেয়ে কঠিন কাজ কাউকে বুঝিয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি করা।

মার্কেটে বিভিন্ন ধরণের এফিলিয়েট থাকলেও সবচেয়ে লাভজনক হল কমিশন বেস প্রডাক্ট বিক্রি করা। এখানে প্রতিটি পণ্য বিক্রির মাধ্যমে $10 – $500 ডলার আয় হতে পারে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর থেকেও বেশি আয় হয় প্রতিটি বিক্রিতে।

এফিলিয়েট প্রোগ্রাম করতে হলে আপনার মার্কেটিং স্কিল ভালো থাকতে হবে। কপিরাইট স্কিলও ভালো থাকতে হবে।

ওয়েবসাইট থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নাই। আপনি ইমেইল বা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। ওয়েবসাইট থাকলে ভালো।

Affiliate মার্কেটিং করে হাজার হাজার ডলার আয় করতে পারেন। কিন্তু শর্ত বা চ্যালেঞ্জ হল, মানুষের কাছে প্রডাক্ট বিক্রি করা।

আপনি যদি প্রডাক্ট বিক্রি না করতে পারেন তাহলে কোনো আয় হবে হবে না। এফিলিয়েট নিয়ে কাজ করার মূল সমস্যা এটাই।

# এডসেন্স (AdSense)

এডসেন্সের এপ্রুভাল পাওয়া একটু কষ্টকর। আপনাকে গুগলের কমিউনিটি গাইডলাইলের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে।

গুগল থেকে বেশি আয় করা সহজ নয় তবে আয় করা সহজ। কেন বলছি, শুনুন।

বিজ্ঞাপণ গুগল দেখাবে তার নিজের ইচ্ছাই। আপনি তাকে শুধুমাত্র আপনার ওয়েবসাইটের লোকেশন বলে দিতে পারেন।

গুগলের বিজ্ঞাপণে ক্লিক পড়লে গুগল আপনাকে কোনো কমিশন দেয় না; মানে পণ্যটি বিক্রি হলেও তার কমিশন আপনি পাবেন না। আপনি শুধু প্রতিটি ক্লিকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাবেন।

এফিলিয়েটে আপনার লিংকে কতজন ক্লিক করল সেটা বিষয় না; কতজন ক্লিক করে পণ্য কিনেছে, তার উপর ভিত্তি টাকা পাবেন।

কিন্তু এডসেন্সের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপণের উপর ক্লিক পড়লেই টাকা পাবেন। যার কারণে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করা সহজ।

সমস্যা হল, গুগলের এডসেন্সের প্রতিটি ক্লিকের বিনিময়ে আপনি ০.০২ – ০.৫০ ডলারের মতো আয় হয়। যা টাকার পরিমাণে খুবই কম, এফিলিয়েটের তুলনায়।

এফিলিয়েট Vs এডসেন্স কোনটি করা লাভজনক।

আপনি নিজে ঠিক করুর প্রতি ক্লিকে ৫০ ডলার আয় করতে চান নাকি ৫০ সেন্স।

আপনি যদি ব্লগার হন দুটোই করতে পারেন। গুগল এফিলিয়েট প্রোগ্রামের বিরোধিতা করে না; তাই আপনি চাইলে এডসেন্সের পাশাপশি অ্যাফিলিয়েট করতে পারেন।

অধিক এড দেখালে যে বেশি বিজ্ঞাপনে ক্লিক হবে এমন নয়। আপনার সাইটের দুই-তিন জায়গায় এডসেন্সের বিজ্ঞাপণ ব্যবহার করুন।

বাকি ১-২ জায়গায় অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপণ ব্যবহার করুন।

অ্যাফিলিয়েটের সাথে এডসেন্স ব্যবহার করার কিছু সমস্যা হল অ্যাফিলিয়েটের লিংকে ক্লিক পড়ার সম্ভাবণা অনেক কমে যায়। কাস্টমার ডিস্ট্রাক্ট হয় বেশি এড দেখালে।

দুটোই একসাথে ব্যবহার করলে, নবাগত কাস্টমার হাতছাড়া হতে পারে।

আমার পরামর্শ:

আপনার সাইট যদি বাংলাতে হয় তবে এডসেন্স ভালো অপশন। সাথে এফিলিয়েট করতে পারেন; তবে আমার মনে হয় না বাংলা কন্টেন্টে এফিলিয়েট করে খুব বেশি লাভ হবে।

ইংলিশ কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করলে এডসেন্সের পাশাপাশি এফিলিয়েট করুন। যদি দেখেন এফিলিয়েট থেকে টাকা আয় হচ্ছে, সাইটে প্রতিদিন অনেক ভিজিটর আসছে।

তখন এডসেন্সকে বাদ দিয়ে শুধু এফিলিয়েট করতে পারেন। ইংলিশ কন্টেন্ট হলে শুধু এফিলিয়েট থেকে অনেক টাকা আয় করা যায়। কিন্তু বাংলা কন্টেন্ট দিয়ে আপাতত সেটা সম্ভব নয়।

Leave a Comment